সিঙ্গাপুর, কানাডা, মালয়েশিয়া, সুইজারল্যান্ডসহ ১০ দেশে টাকা পাচার হচ্ছে

টাকা পাচার
টাকা পাচার

দেশ থেকে টাকা পাচার বন্ধ হচ্ছে না।  পাচারের বেশির ভাগ অর্থ যায় সুনির্দিষ্ট ১০ দেশে। এগুলো হচ্ছে: সিঙ্গাপুর, কানাডা, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, হংকং ও থাইল্যান্ড।

সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রিপোর্টে উঠে এসেছে এমন চিত্র। পাচারকারীরা দেশে রাজনৈতিকভাবে বেশ প্রভাবশালী। ফলে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে কয়েকজন পাচারকারী এবং বিভিন্ন দেশে পাঠানো তাদের অর্থ ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ নিয়েছে দুদক।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম  বলেন, বিনিয়োগের পরিবেশ নেই, যে কারণে টাকা পাচার হচ্ছে। অনেকেই এদেশে টাকা রাখতে নিরাপদ মনে করেন না।

তাই টাকা বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন।

সুইস ব্যাংকের সর্বশেষ রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশটিতে বাংলাদেশিদের আমানত সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। পানামা ও প্যারাডাইস পেপার্সে ৮৪ জন বাংলাদেশির টাকা পাচারের তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাগুলোর মতে, বাংলাদেশ থেকে যেসব টাকা পাচার হয়, তা যায় উন্নত ৩৬ দেশে। এর মধ্যে উল্লিখিত ১০ দেশ চিহ্নিত করেছে বিএফআইইউ ও দুদক। মূলত এসব দেশেই বড় অংশ পাচার হয়।

দেশের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিদেশে টাকা পাচার করেছেন বলে ইতোমধ্যেই সরকারের বিভিন্ন সংস্থা নিশ্চিত হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ‘ধীরে চল নীতি’ অনুসরণ করছেন সরকারের সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি কয়েকজন ব্যবসায়ীর ১ বিলিয়ন ডলার অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ করেছে দুদক।

বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ২০১৪ সালে বাংলাদেশি একটি আলোচিত গ্রুপ সিঙ্গাপুরে ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকায় একটি হোটেল কিনেছিল। ওই গ্রুপটিই ২০১৬ সালে দেশটিতে ৭৮৬ কোটি টাকায় আরও একটি হোটেল কিনেছে। একই গ্রুপ কানাডায় আবাসন খাতেও বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছে বলে ওই দেশের একটি গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়।

এছাড়া ২০১৮ সালে শীর্ষ ৫০ জন ধনীর নাম প্রকাশ করে সিঙ্গাপুরের সরকার। সেখানে ৩৪ নম্বরে স্থান পায় আরেকটি গ্রুপের চেয়ারম্যানের নাম। সেখানে টাকার পরিমাণ দেখানো হয় ৯১ কোটি ডলার বা ৭ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পালিয়ে যান পিকে হালদার। এই অর্থের একটি বড় অংশই পাচার করা হয়।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুরে ২২৭ কোটি টাকা পাচারের তথ্য পেয়েছে দুদক।

অফশোর ব্যাংকিংয়ের নামে ২০১৪-২০১৬ সালে ২৩৬ কোটি টাকা দুবাই ও সিঙ্গাপুরে পাচার করেন এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুল হক ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামীম আহমেদ চৌধুরী। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। অর্থ পাচার করে বাংলাদেশিরা মালয়েশিয়া সরকারের সেকেন্ড হোম প্রকল্পে বাড়ি করেছেন।

জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের অন্যতম গন্তব্য কানাডা। দেশটির সরকারি সংস্থা ফিনট্র্যাক (দ্য ফিন্যান্সিয়াল ট্রানজেকশনস অ্যান্ড রিপোর্ট অ্যানালাইসিস সেন্টার অব কানাডা) সন্দেহভাজন আর্থিক লেনদেন দেখাশোনা করে। সম্প্রতি প্রকাশিত হওয়া সংস্থাটির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, করোনার মধ্যেও গত এক বছরে কানাডায় ১ হাজার ৫৮২টি মুদ্রা পাচারের ঘটনা ঘটেছে।

এই অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কানাডায় এসেছে। পাচারকারীদের বিস্তারিত তথ্য ইতোমধ্যে কানাডিয়ান সিকিউরিটিজ ইনটেলিজেন্স সার্ভিসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, শেয়ারবাজারের ব্রোকারেজ হাউস, আবাসন কোম্পানি এবং ক্যাসিনো থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই তালিকায় কোনো বাংলাদেশির নামও থাকতে পারে।

সর্বশেষ আপডেট: ৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:৩৭
Desk
এড্যমিন

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

ভিডিও